Saturday, August 1, 2015

মুহাম্মদ ও মারিয়া উপাখ্যান




মারিয়া ছিলেন একজন অল্প বয়সী খৃস্টান মেয়ে যাঁকে উপহার হিসেবে মুহাম্মদ পেয়েছিলেন মিশরের সম্রাট মুকাউকিসের নিকট থেকে । তিনি ছিলেন সম্রাটের অনেক দাসীদের একজন । মুহাম্মদ মুকাউকিসকে ইসলামের দাওয়াত [আমন্ত্রণ] পাঠিয়েছিলেন পত্রযোগে । মুকাউকিস ইসলাম গ্রহণ না করলেও মুহাম্মদকে পুরোপুরি হতাশ করেন নি । তিনি তাঁর  প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে  কিছু উপঢৌকন  পাঠিয়েছিলেন । উপহার সামগ্রীর মধ্যে দু’জন কপটিক খৃস্টান দাসী বালিকাও ছিলেন যাঁদের একজন ছিলেন মারিয়া ।   মারিয়ার নাম ছিলো মেরী, অপরজনের নাম ছিলো শিরী । মুহাম্মদ মেরীকে তাঁর নিকট উপপত্নী করে রেখে দেন, এবং শিরীকে তুলে দেন তাঁর বিশ্বস্ত অনুগামী কবি হাসসানের হাতে । মুহাম্মদ মেরীর নাম পাল্টে  মারিয়া রাখেন । মুহাম্মদের কতগুলি দাসী ও উপপত্নী ছিলো সে বিষয়ে  নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না ।  জানা যায় না সেই দাসী উপপত্নীদের নাম,ধাম ও পরিচয়ওএক্ষেত্রে কেবল মারিয়াই ব্যতিক্রম । মারিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় এই  তথ্যগুলির প্রধান উৎস হলো কোরান ও হাদিস । তবে মারিয়া সম্পর্কে যে সব তথ্য পাওয়া যায় তার মধ্যে প্রচুর মতভেদ দেখা যায় ।
মারিয়াকে নিয়ে যে প্রশ্নে তীব্র মতভেদ রয়েছে তা হলো  মুহাম্মদ কি মারিয়াকে বিয়ে করেছিলেন, না কি তাঁকে উপপত্নী করেই রেখে দিয়েছিলেন ? এ মতটাই প্রবল যে মুহাম্মদ তাঁকে বিয়ে করেছিলেন ।  কিন্তু কখন বিয়ে করেছিলেন সে প্রশ্নেও মতভেদ রয়েছে । একটা মত হলো যে,   মারিয়া একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মুহাম্মদ তাঁকে বিয়ে করেছিলেন এবং মুহাম্মদ সেই সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করেছিলেন । অন্য মতটি হলো, সম্রাট মুকাকিউসের অনুরোধে মুহাম্মদ মারিয়াকে বিয়ে করেছিলেন উপহার হিসেবে পাওয়ার অল্প কিছুদিন পরেই । তবে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা  স্পষ্ট যে মারিয়ার গর্ভে সন্তান আসার পূর্বে মুহাম্মদ তাঁকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেন নি । মুহাম্মদের একনিষ্ঠ অনুগামী জীবনীকারদের অনেকেরই মত এটাই ।  এ প্রসঙ্গে জীবনীকার মহম্মদ হেইকল কী লিখেছেন তা উদ্ধৃত করে মহম্মদ সাদাত আলী জানাচ্ছেন, “তবে অন্যান্য অনেকের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনিও বলেছেন যে, প্রথমে তিনি বাঁদি-বিবি ছিলেন পরে সন্তান জন্মদানে সমর্থ হলে তাঁর মর্যাদা উন্নীত হয় । [মহানবী [সঃ] এঁর বিবাহ, পৃষ্ঠা – ১০৪]  
মারিয়াকে কেন্দ্র করে মুহাম্মদ  এমন  কয়েকটি  ঘটনা ঘটিয়েছেন যা লোক সমাজে – কী সে যুগে কী  এ যুগে – খুবই নিন্দার্হ ও কলঙ্কজনক । সেই ঘটনাগুলোর মধ্যে একটা হলো উপপত্নী মারিয়াকে   বিয়ে করা, কারণ তখন ইতিমধ্যেই মুহাম্মদের হারেমে ন’জন স্ত্রী মজুত ছিলেন যাঁরা বংশ ও কূল মর্যাদায় ছিলেন অভিজাত শ্রেণীর । মুহাম্মদ  এতো বেশী সংখ্যক  বিয়ে করেছিলেন যে তার সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না ।  মুহাম্মদ নিজেও কি হিসেব রেখেছিলেন ? সন্দেহ আছে । একজন সাধারণ ব্যক্তির জন্যেও বহু বিবাহ অসমর্থনযোগ্য ও  নিন্দাযোগ্য কাজ, আর মুহাম্মদ তো দাবি করেছেন যে তিনি আল্লাহর নবি । সুতরাং তাঁর বেলায় এটা তো আরো বেশী খারাপ কাজ । এই  খারাপ কাজকে বৈধতা দেওয়ার জন্যে তিনি আল্লাহর দোহায় দিয়েছেন কখনো,  কখনো  মানবতার দোহাই দিয়েছেন, আবার কখনো বা ইসলামের স্বার্থের দোহাই পেড়েছেন ।   এই অবিশ্বাসযোগ্য, অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক দোহাইগুলির সাহায্যেই  মুহাম্মদের অনুরাগীরা  তাঁর প্রতিটি বিয়ের পক্ষে  সাফাই গেয়ে চলেছেন  যুগ যুগ ধরে  । মারিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয় নি ।  মারিয়ার ক্ষেত্রে কী দোহাই বা অজুহাত দেখানো হয়েছে তা শোনা যাক । মারিয়াকে মুহাম্মদ যখন  বিয়ে করেন তখন তাঁর হারেম প্রায় নয়/দশ জন স্ত্রী, অর্থাৎ  স্ত্রীতে স্ত্রীতে হারেম একেবারে টইটুম্বর    মুহাম্মদের একনিষ্ঠ সেবক ড.ওসমান গণিই বলেছেন যে মারিয়া ছিলেন মুহাম্মদের দ্বাদশ স্ত্রী  [দ্রঃ মহানবী, পৃ-৩৯৩] ।  তৎসত্ত্বেও মুহাম্মদ কেনো তাঁকে বিয়ে করেছিলেন সে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আবিসিনিয়ার বাদশা খৃস্টান বিধবা মহিলা মরিয়মকে দাসীরূপে হযরতের নিকট উপহার স্বরুপ পাঠান । তখনকার দিনের নীতি অনুযায়ী কোন রাজা বাদশার উপহার অন্যকে দেওয়া সেই বাদশার প্রতি অবমাননা দেখান । তাই হযরত মারিয়াকে নিজ পত্নীত্বে বরণ করে আবিসিনিয়ারাজের সঙ্গে এক অকৃত্রিম ভালবাসার বন্ধন স্থাপন করেন ।” [দ্রঃ - ঐ] ওসমানের এই যুক্তি শুধু শিশুসুলভই নয়,  প্রতারণামূলকও । আবিসিনিয়ার সম্রাট দু’জন বালিকা দাসীকে পাঠিয়েছিলেন উপহার স্বরূপ, শুধু মারিয়াকেই নয় । মুহাম্মদ মারিয়াকে নিজের জন্যে রেখে অন্যজনকে [শিরীকে]  তাঁর অনুগত কবি হাসসানের হাতে তুলে দেন  ওসমান গণি  শিরীর কথা গোপন করেছেন । দ্বিতীয়তঃ তিনি মারিয়াকে বিধবা বলে মিথ্যাচার করেছেন । মুহাম্মদের সকল জীবনীকারগণই বলেছেন যে মারিয়া ছিলেন কুমারী। মোহাম্মদ বরকাতুল্লাহ মারিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন, “কুমারীদ্বয় খৃষ্টান ছিলেন, মদিনায় পৌঁছিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । তাঁহারা নবীর হেরেমে সেবিকা ছিলেন, পরে মিরাকিউসের অনুরোধে নবী মেরীকে বিবাহ করেন এবং শিরীনকে বিবাহ দেন কবি হাসসান ইবনে সাবেতের সঙ্গে । অতঃপর মেরির নাম হয় মারিয়া কিবতিয়া তাঁহার বংশগত উপাধি ।” [ দ্রঃ মহানবী [সঃ] এঁর বিবাহ, পৃষ্ঠা – ১০৪]  রাজা-বাদশার পাঠানো উপহার অন্যকে দিলে যদি তাঁর প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করা হয় তবে মুহাম্মদ শিরীকে [শিরীন] অন্যজনের সাথে বিয়ে দেন কীভাবে ? সুতরাং মুহাম্মদ   মিশরের সম্রাট মিরাকিউস বা মুকাকিউসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যে মারিয়াকে যে বিয়ে করেন নি  তা সংশয়াতীত । তাহলে প্রশ্ন হল, তিনি  মারিয়াকে কেনো বিয়ে করেছিলেন ? 
মুহাম্মদ মারিয়াকে সেই একই কারণে বিয়ে করেছিলেন যে কারণে হাফসা, জয়নব, রায়হানা, জুয়াইরিয়া, সাফিয়া প্রমুখ রূপসী ও যুবতী মেয়েদের বিয়ে করেছিলেন । খাদিজা ও আয়েশা ব্যতীত মুহাম্মদের প্রত্যেকে স্ত্রীই যুবতী ছিলেন  যুবতী যাদের মধ্যে শেষের চারজন ছিলেন যেমন অসাধারণ সুন্দরী  তেমনি  অল্প বয়সীও  । আর মারিয়া তো  ছিলেন মুহাম্মদের সকল স্ত্রীর চেয়েই  রূপে ও যৌবনে শ্রেষ্ঠ । মারিয়া কুমারিও ছিলেন ।  মুহাম্মদ তাই মারিয়াকে দেখেই মুগ্ধ হয়ে  তাই তাঁকে উপপত্নী করে নিজের হেফাজতে  রেখে দেন এবং  শিরীকে কবি হাসসানের হাতে তুলে দেন । মারিয়া এতোই সুন্দরী ও আকর্ষণীয় ছিলেন যে মুহাম্মদের স্ত্রীরা সকলেই তাঁকে  প্রবল  হিংসা করতেন । মুহাম্মদের কনিষ্ঠতম ও প্রিয়তম স্ত্রী আয়েশা নিজেই সে কথা বলেছেন ।   আয়েশা কি বলেছেন তা তাঁর মুখ থেকেই শোনা যাক –
I was never so jealous as I was with Mariya, that is because she was very beautiful curly haired woman. The Prophet was very attracted to her. [Vide: Women and the Koran, p-73]
আনোয়ার হেকমত আয়েশার উক্ত কথাটা উদ্ধৃত করেছেন একজন প্রথম দিককার নির্ভরযোগ্য মুহাম্মদের জীবনীকার ইবনে সা’দের   গ্রন্থ থেকে  যে গ্রন্থটির নাম ও পৃষ্ঠা নম্বর  হলো  Kitab  al – Tabaqat al – kabir, p.404 শুধু কি মারিয়ার অসাধারণ রূপের জন্যেই আয়েশা এবং তাঁর সতীনরা মারিয়াকে হিংসা করতেন ? না, আয়েশা বলেছেন যে মুহাম্মদ মারিয়ার প্রতি ভীষণই অনুরক্ত ছিলেন [The Prophet was very attracted to her], এবং এটাই তাঁদের [মুহাম্মদের অন্যান্য স্ত্রীদের] মারিয়াকে হিংসা করার প্রধান কারণ । মারিয়ার একদম কচি বয়স এবং ভুবন ভোলানো রূপের জন্যেই মুহাম্মদ মারিয়াকে বিয়ে না করেও সব চেয়ে বেশী ভালবাসতেন, এবং তাঁর কাছেই বেশী সময় থাকতে পছন্দ করতেন  এটা আয়েশা ও অন্য মুহাম্মদের অন্য স্ত্রীরা একদম পছন্দ করতেন না, এবং সহ্যও করতে পারতেন না । আবার একজন কচি মেয়ের রূপ ও যৌবনের প্রতি এমন অনুরাগ ও কামনা আল্লাহর নবির চারিত্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গে মোটেই সামঙ্গস্যপূর্ণ নয় ।  তাই  এটা আড়াল করার জন্যে মুহাম্মদের অন্ধ অনুরাগীদের প্রাণান্তকর প্রয়াসে অন্ত নেই  । সে রকম একটা প্রয়াস দেখতে পাই মোহাম্মদ বরকাতুল্লাহর রচনায় তিনি লিখেছেন, “এই মারিয়ার গর্ভে নবীর শেষ সন্তান ইব্রাহীম জন্মগ্রহণ করেন । প্রিয় পুত্রের জননী হিসাবে নবী তাঁহাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন ।” [দ্রঃ মহানবী [সঃ] এঁর বিবাহ, পৃষ্ঠা –  ১০৪]  বরকাতুল্লাহ সাহেবরা তাঁদের দাবির পক্ষে  যে যুক্তি সাজিয়েছেন তা এ রকম।  খাদিজা ব্যতীত মুহাম্মদের অন্য স্ত্রীরা একটিও সন্তানের জন্ম দিতে পারেন নি । এ দিকে খাদিজার গর্ভে যে ছ’ জন সন্তান এসেছিলো তাদের মধ্যে একমাত্র কনিষ্ঠ কন্যা ফতেমা ছাড়া বাকিরা সকলেই মুহাম্মদের জীবদ্দশাতেই  মারা যায়মুহাম্মদ তাই অন্ততঃ একটা সন্তানের জন্যে, বিশেষ করে একটা পুত্র সন্তানের জন্যে ভীষণ লালায়িত ছিলেন । ফতেমার জন্মের  পঁচিশ বছর পর মারিয়া  একজন পুত্রের জন্ম দিয়ে মুহাম্মদের সেই  প্রবল মনোবাসনা পূর্ণ করেছিলেন  সেজন্যেই  মারিয়ার প্রতি মুহাম্মদের গভীর ভালোবাসার জন্ম হয়েছিলো । 
ইব্রাহীমের জন্ম দিয়েছিলেন বিধায় মুহাম্মদ মারিয়াকে অত্যন্ত বেশী ভালবাসতেন – এটা যে একটা   অসত্য  প্রচারণা  তার  প্রমাণ  রয়েছে  কোরান ও হাদিসে    কোরানের ৬৬/১ নম্বর আয়াতটি তার একটা প্রমাণ । আয়াতটির ভাষ্য হলো – “ হে প্রিয়  নবী! কেনো তুমি তা নিষিদ্ধ করছো যা আল্লাহ তোমার জন্যে বৈধ করেছেন । তুমি চাইছো তোমার স্ত্রীদের খুশী করতে ?” এই আয়াতটি মুহাম্মদ ও মারিয়াকে নিয়ে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে । এই ঘটনাটি ‘মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবন’ অধ্যায়ে ‘হাফসাকে তালাক’ শিরোনামাঙ্কিত লেখায় বিশদে বর্ণনা করা হয়েছে ।  সুতরাং এখানে খুবই সংক্ষেপে বিষয়টি আলোচনা করবো   মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রীদের  মধ্যে কবে কার সঙ্গে থাকবেন তা নির্দিষ্ট  করে দিতেন । যেদিনের যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আয়াতটির অবতারণা সেদিন মুহাম্মদের রাত্রী যাপন করার কথা ছিলো হাফসার সঙ্গে । হাফসা একটা বিশেষ কাজে সেদিন সন্ধ্যার আগে তাঁর বাবার বাড়ি গিয়েছিলেন ।  অবশ্য এ বিষয়ে অন্য একটা মত হলো যে মুহাম্মদই তাঁকে ছল করে   পাঠিয়েছিলেন। তারপর মুহাম্মদ হাফসার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে  মারিয়াকে হাফসার ঘরে ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে যৌনসংগমে লিপ্ত হয়ে যান ।  এদিকে  মুহাম্মদ তাঁর ঘরে আসবেন বলে হাফসা অতি দ্রুতই পিতৃগৃহ থেকে তাঁর নিজের ঘরে ফিরে আসেন । তখনও মুহাম্মদ মারিয়ার সঙ্গে রতিক্রিয়ায় মগ্ন ছিলেন । তাই হাফসা  দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকেই  মুহাম্মদ ও মারিয়াকে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত অবস্থায়ই দেখতে পান ।  মুহাম্মদ একেবেরে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান হাফসার কাছে । হাফসা তখন  রাগে  মেজাজ হারিয়ে তীব্র ভাষায় এবং উচু গলায় মুহাম্মদকে ভর্ৎসনা করতে শুরু করেন । হাফসার মুখ বন্ধ করতে নিরুপায় হয়ে মুহাম্মদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যে তিনি মারিয়াকে আর কোনোদিন স্পর্শ করবেন না । কয়েকদিন পরেই মুহাম্মদ উপলব্ধি করেন যে তাঁর পক্ষে  মারিয়া বিহনে বেশী দিন অতিবাহিত করা একেবারেই সম্ভব  নয় ।  মুহাম্মদ যখনই কঠিন কোনো সমস্যায় পড়েছেন আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় ওহি বা আয়াত প্রেরণ করতে বিলম্ব করে নি । এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয় নি ।  আল্লাহ দ্রুতই সেই ৬৬/১ নং আয়াতটি  পাঠিয়ে দেয় যাতে তার প্রিয় নবি  হাফসাকে দেয়া  প্রতিশ্রুতি থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে এবং  আবার  ইচ্ছা  মতো  মারিয়ার সঙ্গে নিশিদিন সময় অতিবাহিত করতে পারেন  
মারিয়ার সঙ্গ লাভের  জন্যে মুহাম্মদ প্রায় পাগল হয়ে উঠেছিলেন  । এদিকে মুহাম্মদের স্ত্রীদের, বিশেষ করে হাফসা ও আয়েষার  মারিয়ার প্রশ্নে ছিলো অসম্ভব কড়া ও অনড় মনোভাব  ৬/১ নং ওহি এনে মুহাম্মদ যখন ওঁদের বোঝালেন যে  হাফসাকে মারিয়ার প্রশ্নে যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন তা আল্লাহর অপছন্দ, তখনও তাঁরা তাঁদের কঠোর মনোভাবে ত্যাগ করেন নি । অর্থাৎ মুহাম্মদ মারিয়ার কাছে যান এবং তাঁর সঙ্গে সহবাস করেন তা তাঁরা কিছুতেই মানবেন না । এ অবস্থায় মুহাম্মদ আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন । ফলে মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবনে কলহ চরম রূপ নেয় । মুহাম্মদ ক্রমশঃ তাঁর স্ত্রীদের আল্লাহর ভয়  দেখাতে থাকেন এবং একটা পর্যায়ে তিনি আয়েষা ও হাফসাকে তালাক দেবার হুমকিও দেন । মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবনের এরূপ নিম্ন মানের কলহ যা নিরক্ষর এবং চাল-চূলোহীন বস্তিবাসীদের  দাম্পত্যকলহকেও লজ্জা দেবে । না, এটা মোটেই  বানানো কোনো গল্প নয় ।   এটা যে একটা নির্মম সত্য ঘটনা  তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে কোরান ও হাদিস মারিয়াকে কেন্দ্র করে মুহাম্মদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীদের সংঘাত যে চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিলো তার প্রমাণ রয়েছে  ৬৬/৪, ৬৬/৫ এবং ৩৩/২৮ নং আয়াতগুলিতে     এখানে খুবই সংক্ষেপে এই ঘটনাটি আলোচনা করবো, কারণ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ‘মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবন’ অধ্যায়ে ।   মুহাম্মদ ভেবেছিলেন যে ৬৫/১ নং আয়াতের কথা শুনে তাঁর স্ত্রীরা মারিয়ার ব্যাপারে  আর আপত্তি করবেন না। কিন্তু তা তো হয়ই নি, ফল হয়েছিলো উল্টো । হাফসা ও আয়েশা  মুহাম্মদের প্রতি আরো বিরূপ হয়ে ওঠেন এবং তাঁর সঙ্গে বিছানা ভাগ করে নিতে অস্বীকার করেন । মুহাম্মদ তখন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মারিয়ার ব্যাপারে । অন্য স্ত্রীদের ছেড়ে মারিয়ার কাছে চলে যান এবং দীর্ঘ  একমাস কাল  তাঁর সঙ্গে অতিবাহিত করেন । ৩৩/২৮ নং আয়াতের তফসিরে  তার ইঙ্গিত আছে । এই আয়াতের অর্থ হলো – “ ... যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তাহার শোভা অভিলাষ করিয়া থাক তবে এস, তোমাদিগকে তাহার ফল ভোগ করাইব, এবং তোমাদিগকে উত্তম বিদায় দান করিব ।”   এই আয়াতটির তফসীরে গিরিশচন্দ্র সেন লিখেছেন, “মদীনা প্রস্থানের নবম বৎসরে হজরত সেই পত্নীগণ  হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছিলেন ও শপথ করিয়াছিলেন যে একমাস কাল তাঁহাদের সঙ্গ করিবেন না, কারণ এই যে, তাহারা সাধ্যাতীত বস্ত্রাদি প্রার্থনা করিয়াছিলেন ।” তফসীরে কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা কিন্তু একদম সঠিক নয় । কারণ, নবম বৎসরে মুহাম্মদ তখন একজন বড়ো বিত্তবান হয়ে উঠেছেন । কীভাবে দরিদ্র মুহাম্মদ বিত্তবান হয়ে উঠেছিলেন তা সংক্ষেপে 'মুহাম্মদের দাম্পত্যজীবন' অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে । প্রকৃত কারণ হলো হাফসা ও আয়েশা কিছুতেই মারিয়াকে তাঁদের সহ-পত্নী বা সতীন হিসেবে মেনে নিতে পারেন নি । মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একমাস কাল যে বাইরে [মারিয়ার সঙ্গে] কাটিয়েছিলেন তার উল্লেখ হাদিসেও পাওয়া যায়। হাদিসটি হলো – “ ...  রাসূলে পাক [সাঃ] তাঁর স্ত্রীদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, তিনি  দীর্ঘ একমাস তাদের সাথে একত্রে কালযাপন করবেন না । শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক তাঁকে এ আচরণের জন্য মৃদ্যু ভর্ৎসনা করেন । যুহুরী [রাঃ] বলেন, ওরওয়াহ [রঃ] আয়েশা [রাঃ] হতে আমাকে রেওয়াত করেছেন যে, আয়েসা [রাঃ] বলেছেন, ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে প্রথমে রাসূলে পাক [সাঃ] আমার নিকট আগমন করলেন । তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ [সাঃ] আপনি তো কসম  করেছিলেন যে, একমাস যাবত আপনি আমাদের নিকট আসবেন না । অথচ ঊনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন । আমি দিনগুলোর হিসেব রেখেছিলাম । তিনি বলেন, মাস ঊন্ত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে ।”  [মুসলিম শরীফ, ১-৮ খন্ড একত্রে, সোলেমানিয়া বুক হাউস, ঢাকা, হাঃ নং ৩৫৬০]  একমাস মারিয়ার সঙ্গে অতিবাহিত করে মুহাম্মদ তাঁর স্ত্রীদের কাছে ফিরে যাওয়ার পরও  হাফসা ও আয়েশা তাঁদের পূর্বাবস্থানে অনড় ছিলেন । মুহাম্মদের সঙ্গে রাত্রি না যাপনের  অঙ্গীকার থেকে একচুলও  নড়েন নি । তাঁরা মুহাম্মদকে জানিয়ে দেন, যতদিন না মারিয়াকে ত্যাগ  করবেন ততদিন আমাদের সঙ্গে রাত্রি যাপন করতে পারবেন না । মুহাম্মদ তাঁদের অনড় অবস্থান ত্যাগে বাধ্য করানোর জন্যে তখন  আবার আল্লাহর  ওহির আশ্রয় নেন । জারি করেন ৬৬/৪ নং আয়াত । তাতে বলা হচ্ছে যে তাঁদের এরূপ আচরণের জন্যে আল্লাহ তাঁদের উপর ভীষণ রুষ্ট হুয়েছেন। আয়াতটির ভাষ্য হলো – “ ... তোমাদের দুজনের হৃদয় অন্যায়-প্রবণ হয়েছে, এখন যদি তোমরা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করো আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন ।”   কিন্তু না, তাতেও মুহাম্মদের কার্যসিদ্ধি হয় নি, হাফসা ও আয়েসা আল্লাহর দিকে তথা মুহাম্মদের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন নি । মুহাম্মদ তখন আর কোনো উপায়ান্তর নে দেখে তাঁর শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করেন । তালাক দেবার হুমকি দেন । ৬৬/৫ নং আয়াতটি বা ওহিটির অবতারণা সেই উদ্দেশ্যেই । আয়াতটির বক্তব্য হলো – “যদি নবি তোমাদের সকলকে পরিত্য্যাগ করে, তবে তার প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে সম্ভবত তাকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্ত্রী দেবেনে, যারা হবে  আত্মসমর্পণকারী, বিশ্বাসী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারী এবং বিধবা ও কুমারী।”  বলা বাহুল্য যে তালাক দেবার হুমকি ব্যর্থ হয় নি । পাছে সত্যিই তালাক দিয়ে দেন এই ভয়ে হাফসা ও আয়েশা পিছু হটেন এবং মারিয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান ত্যাগ করেন । মারিয়াকে নিয়ে এসব কাণ্ড ঘটেছিলো মারিয়ার গর্ভে তাঁর পুত্র সন্তান ইব্রাহীম আসার পূর্বেই । সুতরাং এটা সত্যি নয় যে ইব্রাহীমকে জন্ম দেওয়ার জন্যেই মারিয়া মুহাম্মদের অতি প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন । নির্মম সত্যিটা হলো মারিয়ার অসাধারণ রূপ, উদ্দাম যৌবন ও দেহসৌষ্ঠবের কারণেই  মুহাম্মদ  তা৬র প্রতি অতিশয় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন ।
 

Monday, July 27, 2015

তিন দিনের হজের স্বল্প পরিসরেই মাইমুনাকে বিয়ে


সপ্তম হিজরীতে অর্থাৎ ৬২৯ খৃস্টাব্দে মুহাম্মদ বিয়ে করেন ২ বছর বয়সী বিধবা নারী মাইমুনাকে । মুহাম্মদের স্ত্রীদের বয়স বেশী করে দেখানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় মুসলিম লেখক ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে । তাঁরা বোঝাতে চান যে নারীদের যৌবন ও রূপ-লাবণ্যের কারণে নয়, তিনি বহু  বিয়ে করেছিলেন ইসলামের প্রয়োজনে, অথবা মানবতার কারণে । সে জন্যে মাইমুনার বয়সও বেশী করে দেখিয়েছেন তাঁরা  । যেমন মহম্মদ সাদাত আলি লিখেছেন, “হযরতের সঙ্গে যখন মাইমুনার বিবাহ হয় তখন রাসুলের [সাঃ] – এর বয়স ৬০ এবং মাইমুনার বয়স ৪৬ ।” [দ্রঃ মহানবী [সঃ] এঁর বিবাহ, পৃ – ১২৪]  বয়সের এই তথ্যটি খণ্ডন করেছেন অন্যান্য মুসলিম পণ্ডিতগণও   মুহাম্মদের একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী  ড.ওসমান গণি এক্ষেত্রে সাদাত আলীর মতো মিথ্যাচার করেন নি । তিনি  লিখেছেন যে মাইমুনার বয়স ছিলো তখন মাত্র ২৮ বছরতিনি কী বলেছেন তা একটু পরে উদ্ধৃত করবো । মাইমুনা নামটি কিন্তু তাঁর আসল নাম ছিলো না, ওটা মুহাম্মদ প্রদত্ত নামমাইমুনার আসল নাম ছিলো বাররাহ । তাঁর পিতা হারিস বিন হাযন ছিলেন কোরেশ বংশের হাওয়াজিন গোত্রের একজন  গণ্যমান্য ব্যক্তি  মুহাম্মদের সঙ্গে বিয়ের পূর্বে মাইমুনার আরো দু’বার বিয়ে হয়েছিলো । প্রথমে বিয়ে হয়েছিলো মাসউদ বিন উমর-এর সঙ্গে । মাসউদের সঙ্গে দাম্পত্যজীবন সুখের ও স্থায়ী হয় নি  । তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে দ্বিতীয় বিয়ে হয় আবু রাহাম বিন উজ্জার সঙ্গে । আবু রাহাম কিছুদিনের মধ্যে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান । মাইমুনা আর একটি বিশেষ পরিচয় বহন করতেন । তিনি ছিলেন মুহাম্মদের আপন কাকা  আব্বাসের   শ্যালিকা । অর্থাৎ মাইমুনা ছিলেন সম্পর্কে মুহাম্মদের কাকীমা  । মুহাম্মদ ও মাইমুনার মধ্যে বিয়েটি অনুষ্ঠিত হয় মক্কা নগরীতে । মক্কা  থেকে মুহাম্মদ ৬২২ খৃস্টাব্দে মদিনায় চলে  যান তাঁর নিজের ধর্ম  ইসলামের  প্রচারের  জন্যে । মদিনা যাওয়ার আগে বারো-তেরো  বছর ধরে তিনি মক্কা শহরে  ইসলামের প্রচার করেন । কিন্তু মক্কার মানুষ তাঁর আহ্বানে  সাড়া দেয় নি, ঘুরিয়ে তাঁকে পাগল ও প্রতারক বলে উপহাস করতো   তখন তখন তিনি মদিনা চলে  যান তারপর মক্কার কোরেশদের সঙ্গে  তাঁর সম্পর্কের ক্রমশঃ অবনতি  হতে থাকে  ফলে মুহাম্মদ দীর্ঘ ছ’ বছর মক্কায়  পা রাখতে পারেন নি । ৬ষ্ঠ হিজরীতে মক্কায় যাওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোরেশদের একটি চুক্তি  [হুদায়বিয়ার  চুক্তি] হয় সেই চুক্তির  একটা শর্ত ছিলো এরূপঃ   মুহাম্মদ ও তাঁর শিষ্যরা  মক্কায় হজ করতে  যেতে পারবেন, তবে  হজ সম্পন্ন করার জন্যে মক্কায় তাঁরা   তিন দিনের বেশী  অবস্থান করতে পারবেন না   সেই চুক্তি  অনুসারে পরের বছরেই  সদলবলে তিনি মক্কা হজ করতে যান এবং ঐ স্বল্প সময়ের মধ্যেই মাইমুনাকে বিয়ে করেন     
হজের জন্যে  মাত্র তিন দিন সময়,  এই তিন দিনে হজ ক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজে  প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকার কথা, তার মধ্যেই বিয়ে ? অবাক কাণ্ডই বটে !  কিন্তু না, মুহাম্মদের বেলায় ‘অবাক’ শব্দটাই একেবারে   বেমানান কারণ, তাঁর  কাছে  একটা বিয়ে করার জন্যে তিন দিন মোটেই কম সময় নয়, বরং বলা যায় যে  যথেষ্ট বেশীই   তিনি তো এর আগে এক পলক দেখা মাত্রই  তাঁর অনেক স্ত্রীকেই পছন্দ করেছেন এবং  তৎক্ষণাৎ তাঁদের সঙ্গে  বিয়ের কার্যাদিও সম্পন্ন করেছেন । রায়হানা ও জুয়াইরিয়াকে তো তিনি এক পলক দেখেই বিয়ে করবেন বলে স্থির করেছিলেন এবং কয়েক ঘন্টা যেতে না যেতেই  বিয়েও করেছিলেন ।       এ হেন মুহাম্মদের পক্ষে  তাই হজ করতে গিয়ে মাত্র তিন দিনের স্বল্প সময়ের পরিসরে  মাইমুনাকে  বিয়ে করতে   কোনো সমস্যাই হয় নি । 
মাত্র তিন দিন সময়, তার মধ্যেই তিনি হজও করলেন, আবার বিয়েটাও সম্পন্ন করলেন ! এ বিয়ে তো শ্ত্রুদের পদানত বা বিনাশ করে, তাদের নারীদের দখল করে, বন্দি করে, তাদের মধ্যে  যাকে পছন্দ হলো তাকে বিয়ে করে নিলাম – এভাবে তো হয় নি ।  বিয়ের আগে তো রীতিমতো মেয়ের সঙ্গে বা মেয়ে পক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে হয়েছে । আবার মুহাম্মদের হয়েও তো কেউ কথাবার্তা বলেছে ।  কারা  তারা ?  আর কেই বা ছিলেন সেই  ঘটক ?  এতো স্বল্প সময়ে কীভাবেই বা ঘটকালি পর্ব সেরে হজের ক্রিয়াকর্মের  মধ্যেই বিয়েটা সম্পন্ন হলো ? এসব প্রশ্ন এখনও মুসলমানদে  তাড়া করে ফেরে । আর  এর উত্তর দিতে গিয়ে ইসলাম ও মুহহাম্মদের পক্ষ সমর্থনকারী ঐতিহাসিক ও জীবনীকারগণদেরও  নাকানি-চোবানি খেতে  হয় তাঁরাও যে যার মতো করে উত্তর দেবার চেষ্টা করেন । ফলে মুহাম্মদ ও মাইমুনার বিয়ের ইতিহাস নিয়ে তাঁদের মধ্যে  প্রবল মতভেদ পরিলক্ষিত হয়  কেউ কেউ বলেছেন মাইমুনা স্বয়ং বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন । কেউ কেউ বলেছেন যে মুহাম্মদের কাকা আব্বাস বিন মোত্তালেব মুহাম্মদের কাছে মাইমুনার হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন । কেউ কেউ আবার মানতেই চান নি যে ৭ম হিজরিতে বিয়ে হয়েছিলো । তাঁরা ভেবেছেন যে হজ করতে গিয়ে, তাও আবার তিন দিনের সময়-সীমার মধ্যে বিয়ের ঘটনাকে স্বীকার করলে মুহাম্মদের মহত্ত্ব ভুলুণ্ঠিত হয় । তাই তাঁরা বলেছেন যে মাইমুনাকে মুহাম্মদ বিয়ে করেছিলেন ৮ম হিজরীতে যে বছর মুহাম্মদ  মক্কা বিজয় করার পর ।    মুহাম্মদ ও মাইমুনার বিয়ে নিয়ে এই তিন প্রকার মতামত আমরা শুনতে পায় । তাঁরা ঠিক কি বলেছেন শোনা যাক ।  একটা মত হলো এ রকমঃ   ‘মহানবী [সঃ] এঁর বিয়ে’ গ্রন্থের লেখক মহম্মদ সাদাত আলী লিখেছেন -  “পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ [সাঃ] তিনিদিন মক্কায় ছিলেন । এ সময় তিনি কারো গৃহে না গেলেও আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে কারো কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে ।  অল্প-বিস্তর আলাপও হয়েছে কারো কারো সঙ্গে । এই স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই ঘটে গেছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা । হযরতের এক আত্মীয়া নাম বাররাহ [নতুন নাম মাইমুনা বিবি], যিনি একজন বিধবা রমণী, হযরতের পাণি প্রার্থিনী হয়ে পয়গাম পাঠান  রাসুলুল্লাহ [সাঃ] বিবি মায়মুনার সাধ পূরণ করেন । তিনি মায়মুনাকে বিবাহ-পূর্বক সঙ্গে করে মদিনায় নিয়ে যান । [পৃ-১২২,১২৩]    মহম্মদ হেইকল বলেছেন মাইমুনার পক্ষে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আব্বাস । সাদাত আলি হেইকলকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, “মাইমুনা যখন মুসলমানদেরকে ওমরা পালনরত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেন, তিনি ইসলামের প্রতি মোহিত হয়ে পড়েন এবং আল-আব্বাসকে ভ্রাতুষ্পুত্রের সঙ্গে তার [মাইমুনার ] বিবাহ পয়গাম পেশ করতে অনুরোধ করেন। মুহাম্মদ বিবাহে সম্মতি দেন এবং চারশত দিরিহাম মোহরানা প্রদানে রাজী হন । [দ্রঃ – ঐ, পৃ-১২৩]    ড.ওসমান গণি তৃতীয় মতটি ব্যক্ত করেছেন । তিনি লিখেছেন, “২৮ বছরের মায়মুনা ছিলেন উম্মুল ফজলের বোন । উম্মুল ফজল ছিলেন – আব্বাস বিন মোত্তালিবের স্ত্রী । যখন মক্কা বিজয় হলো, তখন মায়মুনা মুসলমান হলেন । স্বয়ং আব্বাস হযরতকে অনুরোধ করলেন – হযরত ও কুরাইশদের মধ্যে প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও প্রবল করার জন্য মায়মুনাকে বিবাহ করতে । হযরত অনুরোধ রক্ষা করলেন । [দ্রঃ – মহানবী, ওসমান গণী, পৃ – ৩৯২,৩৯৩]   ওসমান গণির এই তথ্য হলো  এক নগ্ন মিথ্যাচারের নমুনা । মুহাম্মদের বিয়েটাকে যুক্তিগ্রাহ্য করে  দেখানোর জন্যে তিনি সম্পূর্ণ মনগড়া তথ্য ও যুক্তি দিয়েছেন । মাইমুনার সঙ্গে মুহাম্মদের বিয়ে ৭ম হিজিরীতেই অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের আগের বছরেই সম্পন্ন হয়েছিলো তা জানিয়েছেন সকল ঐতিহাসিক ও মুহাম্মদের জীবনীকাররাই । সাদাত আলি বলেছেন ৭ম হিজিরিতে সে কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ।  মুহাম্মদের  জীবনীকার ও বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিশ্বনবী’র লেখক কবি গোলাম মোস্তফাও সে কথাই লিখেছেনতিনি এই গ্রন্থের ২৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “কিন্তু এই অল্পপরিসর সময়ের মধ্যে আর একটি কাণ্ড ঘটিল । হযরত যে - তিনিদিন মক্কায় ছিলেন, সে – তিনিদিন কাহারও গৃহে প্রবেশ করেন নাই বটে, কিন্তু কোন কোন কোরেশ নাগরিকের সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ ও আলাপ-পরিচয় হইয়াছিল । সেই সূত্রে মাইমুনা নাম্নী তাঁহারই জনৈক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়া বিধবা রমণী হযরতের সহিত পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হইবার জন্য প্রস্তাব পাঠাইয়া দেন  হযরত তাঁহার এ বাসনা পূর্ণ করেন ।”
মুহাম্মদ যখন মাইমুনাকে বিয়ে করেন তখন তাঁর হারেম ৯/১০ জন স্ত্রীর উপস্থিতিতে কোলাহল মুখরযে স্ত্রীরা তখন তাঁর হারেমে কোলাহল করছেন তাঁরা ছিলেন সওদা, আয়েষা, হাফসা, উম্মে সালমা, জয়নাব, রায়হানা, জুয়াইরিয়া, উম্মে হাবিবা, মারিয়া  প্রমুখ । এতো জন স্ত্রীর উপর আবার বিয়ে ? এই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুহাম্মদের অনুসারীরা যে যুক্তি সাজিয়েছেন তা যেমন বালখিল্য তেমনই হাস্যকরও বটে । মাইমুনা নাকি পাণিপ্রার্থী হয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন তাই মুহাম্মদ তাঁকে বিয়ে করেছিলেন ।  এতে  নাকি মুহাম্মদের উদারতার প্রকাশ ঘটেছে !  একজন নারীর প্রতি উদারতা দেখাতে কি অন্য নারীদের অপমান ও সর্বনাশ করা যায় ? আর  নবিকে উদারতা দেখানোর জন্যে নারীদেরই বলি চড়াতে হয় কেনো ? আবার মাইমুনা কেনো মুহাম্মদের প্রতি মুগ্ধ ও অনুরক্ত হয়েছিলেন সে কথা বলতে  গিয়ে তাঁরা যা বলেছেন তা  গোঁজামিল  ছাড়া কিছুই নয় । তাঁরা লিখেছেন যে মুসলমানদের ওমরা দেখে মাইমুনা মোহিত হয়ে পড়েছিলেন । হজ করার আচার-অনুষ্ঠানগুলি পালন করার অপর নাম ‘ওমরা’  । প্রাক ইসলাম যুগে  কোরেশরা হজ সম্পন্ন করতে গিয়ে  যা যা করতো মুসলমানরাও তা তা করে । সুতরাং ‘ওমরা’ দেখে মাইমুনার মোহিত হওয়া এক ভয়ঙ্কর গোঁজামিল ছাড়া কিছুই নয়। আর  এর মধ্যে দিয়ে  আরবের ইতিহাস  সম্পর্কে তাঁদের নিদারুণ অজ্ঞতাটাও উন্মোচিত হয়েছে ।  মোদ্দা কথা হলো, মাইমুনা নিজেই তাঁর বিয়ের প্রস্তাব পঠিয়েছিলেন এটা নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসসিদ্ধ নয় । তাই মুহাম্মদের কাকা আব্বাসই এই বিয়েতে একটা বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন এ তথ্যটা অনেকখানিই বিশ্বাসযোগ্য ও  গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় । যাঁরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ইসলামের ইতিহাস ও মুহাম্মদের উপর আলোকপাত করেছেন তাঁরাও বলেছেন আব্বাসের উদ্যোগেই এই বিয়েটা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।  ধর্মনিরপেক্ষ ও যুক্তিবাদী  ঐতিহাসিক আনোয়ার হেকমতও  এই মতই ব্যক্ত করেছেন । তিনি জানিয়েছেন যে আব্বাস তাঁর শ্যালিকাকে তাঁর ভাইপোর হাতে তুলে দিয়েছেন ।  তিনি যা লিখেছেন -  
Muhammad’s marriage with Maymuna was contracted with the help of his uncle, ‘Abbas, who acted as her guardian. In fact, he was giving away his sister-in-law to his own nephew, Muhammad.  [Vide: Women and the Koran, p-66, 67]
আব্বাস নিজে স্বধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন নি । তাঁর স্ত্রী, শ্যালিকা ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরাও তাই । তাহলে, তিনি কেনো  মুহাম্মদের সঙ্গে মাইমুনার বিয়ে দিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন ? এর পশ্চাতে নিশ্চয় কোনো কারণ ছিলো । সেটা উদ্ঘাটন করতে গিয়ে আনোয়ার লিখেছেন যে আব্বাস ছিলেন একজন ধনী ব্যবসায়ী এবং  অত্যন্ত বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব। তিনি এটা বুঝতে পারছিলেন যে আরব উপদ্বীপের শক্তির ভারসাম্য ক্রমশঃ মুহাম্মদদের অনুকূলে ঢলে যাচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে মুহাম্মদই হতে যাচ্ছেন সেখানকার ভবিষ্যতের নায়ক ও ক্ষমতার মালিক ।  তাই তিনি তাঁকে খুশি করার জন্যে তাঁর সঙ্গে তাঁর শ্যালিকা মাইমুনার বিয়ে দিয়েছিলেন । এদিকে মুহাম্মদও শুধু হজ করতেই মক্কা যান নি । তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো মক্কার  কোরেশদের মধ্যে থেকে কিছু লোককে  ইসলামের পতাকার নীচে নিয়ে আসা  । তার জন্যেই তিনি  একটা উপায় খুঁজছিলেন কীভাবে নির্ধারিত তিনদিনের থেকে কিছু বেশী সময়  মক্কায় অবস্থান করা যায়    এ মতাবস্থায় মাইমুনাকে বিয়ে করার জন্যে আব্বাসের প্রস্তাব তাঁর কাছে যেনো মেঘ না চাইতেই জলের মতো আশীর্বাদ হয়ে ঝরে পড়লো মাইমুনা একদিকে রূপবতী ও যৌবনবতী নারী, তারপর একজন ধনী ব্যবসায়ী, সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কন্যা । সুতরাং মাইমুনাকে বিয়ে করলে যেমন  মন পছন্দ আর একজন স্ত্রী পাওয়া যাবে যে স্ত্রী কোরেশদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্র সহায়ক  হতে পারে , এবং বিয়ে উপলক্ষ্যে মক্কায় অবস্থান কালের নির্ধারিত তিনদিনের সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রও তৈরী হবে    মুহাম্মদ তাই আব্বাসের প্রস্তাবে হাসি মুখে সম্মতি দিতে তিলমাত্র বিলম্ব করেন নিমুহাম্মদ যে তিনদিনের অধিক সময় মক্কায় অবস্থান করতে চেয়েছিলেন তা মুহাম্মদের মুসলিম জীবনীকাররাও অস্বীকার করেন না ।  সাদাত আলি মার্টিন লিঙ্গসকে উদ্ধৃত করে   লিখেছেন, “ হযরত যখন মুলতুবি হজ্ব সম্পন্ন করলেন, তৃতীয় দিনে কোরেশরা এসে হযরতকে বললেন, ‘সময় শেষ, সুতরাং বিদায় হও ।’ ইতিমধ্যে বিবি মাইমুনার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ [সাঃ] – এর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে মহানবী [সাঃ] কোরেশদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘একটু সুযোগ দিলে তোমাদের কি কষ্ট হবে, আমি বিবাহ-উৎসবে তোমাদের জন্যে ভোজ দিচ্ছি ?’ কিন্তু কোরেশগণ কোন সময় দিতে রাজি নয় ।”  [দ্রঃ মহানবী [সঃ] এঁর বিবাহ, পৃ – ১২৪, ১২৫]  ঐতিহাসিকরা অনেকেই এই মত পোষণ করেছেন যে, মাইমুনাকে বিয়ে করার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিলো । মাইমুনাকে বিয়ে করে মদিনায় নিয়ে যাওয়ার কিছু দিন পরেই তাঁর [মাইমুনার]  দিদির ছেলে প্রখ্যাত বীর খালিদ দু’জন বিশিষ্ট ও প্রভাবশালী কোরেশকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় গিয়ে ইসলামের পতাকা গ্রহণ করেন । এ প্রসঙ্গে কবি গোলাম মোস্তফা লিখেছেন, “এই বিবাহের এক আশ্চর্য ফল ফলিল । বীর কেশরী খালিদ ছিল মাইমুনার আপন ভগিনীর পুত্র । পাঠকের নিশ্চয় স্মরণ আছে এই খালিদের অসাধারণ বীরত্ব ও রণচাতুর্যের ফলেই ওহদ-যুদ্ধে মুসলমানদিগের ভাগ্য-বিপর্যয় ঘটিয়াছিল । মাইমুনার বিবাহের পরই খালিদ অপ্রাত্যাশিতভাবে মদিনায় গিয়া হযরতের হাতে হাত রাখিয়া ইসলাম গ্রহণ করিলেন । শুধু কি খালেদ ? আরও দুইজনকে তিনি সঙ্গে লইয়া গেলেন । একজন মক্কার প্রখ্যাত কবি আমর ইবনুল আ’স অন্যজন কাবা গৃহের কুঞ্জি-রক্ষক ওসমান-বিন তালহা । এই তিনজন শক্তিমান পুরুষের ইসলাম গ্রহণে কোরেশদিগের মেরুদণ্ড যে একেবারে ভাঙিয়া পড়িল সে কথা বলা বাহুল্য ।   [বিশ্বনবী, পৃ-২৩০]   
এর পরেও সংশয় থেকে যায় - মুহাম্মদ ও মাইমুনার বিয়ে কি সত্যিই তিন দিনের স্বল্প পরিসরেই আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছিলো ?  না কি এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো ঢের আগে থেকে ? আর শুধু কি মাইমুনার খাতিরেই খালিদ স্বধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ? না কি এর পেছনে অন্য কোনো বড়ো কারণ নিহিত ছিলো ? এরূপ সংশয় বা প্রশ্নগুলিকে অবান্তর বলে উড়িয়ে দেওয়া সমীচীন হবে  না । এই প্রশ্নগুলির জবাব অন্বেষণ করার জন্যে  মুহাম্মদ তখন কীভাবে প্রায় রকেটের গতিতে  তাঁর সামরিক ও আর্থিক শক্তি ও সম্পদ বৃদ্ধি  করে মক্কা বিজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সে কথাটা এই পরিসরে হিসেবের মধ্যে রাখা দরকার । মদিনায় আসার পর  মাত্র ৫/৬ বছরেই  মুহাম্মদ  অঢেল সম্পত্তির মালিক ও বিরাট বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন   তাঁর শিষ্যরাও একই সাথে প্রত্যেকেই বিত্তবান  হয়ে উঠেছে । রাতারাতি এভাবে  বিত্তবান হয়ে ওঠার ঘটনা ‘আঙুল ফুলে কলা গাছ’ প্রবাদকেও যেনো  হার মানায় । এ খবর  নানা সূত্রে মক্কার কোরেশদের কানে ক্রমাগত পৌঁছে  যাচ্ছিল  যা তদের অনেককেই প্রলুব্ধ করছিলো এবং   ইসলামের দিকে হাতছানি দিচ্ছিলো  মুহাম্মদ ও মুসলমানদের রাতারাতি এরূপ ধনী হয়ে ওঠার খবর যে স্রেফ  মিথ্যে বা গুজব নয়  তার এক ঝলক তারা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিলো  আগের বছরই [৬ষ্ঠ হিজিরীতে] মুহাম্মদ যখন বিরাট  দলবল নিয়ে  হজ করতে এসে ফিরে গিয়েছিলো কেবল একটি চুক্তি [হুদায়বিয়ার চুক্তি] সম্পদন  করে তখন তাঁর সঙ্গে ছিল ১৫০০ জন মুসলমান এবং কোরবানি দেওয়ার জন্যে ছিলো ৭০টি উট । মুহাম্মদের এই জনবল ও অর্থবল কোরেশরা কমবেশী  সবাই চাক্ষুস করেছিলো । তারা এ খবরও অবগত হয়েছিল যে যারা মুহাম্মদের  সঙ্গে ডাকাতি, রাহাজানি, হত্যাকাণ্ড ও লুটপাঠে অংশ নেয় তারা  শুধু প্রচুর অর্থই নয়, তার সঙ্গে ভাগে পাচ্ছে বিধর্মী নারীও  এ খবরে  মরুবাসী মেষপালকদের মনে ঝড় ওঠারই কথা ।  ওঠেওছিলো । খবরটা তাই বৈদ্যুতিক চুম্বকের মতো  তাদের ক্রমাগত আকর্ষণ করছিলো । আর মরুবাসী কোরেশদের মনের এই  খবর  সম্পর্কে মুহাম্মদও  ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল ছিলেন । ফলে  মক্কার সে সব  কোরেশদের  সঙ্গে মুহাম্মদের কিছু লোকের মাধ্যমে  গোপনে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলতেন   এক্ষেত্রে তাঁর কাকা আব্বাস  ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড়ো মাধ্যম  হুদায়বিয়া চুক্তি সম্পাদন করে ফিরে যাওয়ার সময় খুব সম্ভবত মুহাম্মদ তাঁর কাকা আব্বাসের সঙ্গে এ বিষয়ে বিশদে কিছু আলোচনা করে গিয়েছিলেন র তারই ফলশ্রুতিতে মাইমুনার সঙ্গে বিয়ে এবং খালিদের ইসলাম গ্রহণের  ঘটনা ঘটেছিলো 
মুহাম্মদ ও মাইমুনার বিয়ের সঙ্গে আর একটা অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার যোগ আছে । সেটার  উল্লেখ  উল্লেখ না করলে মুহাম্মদ ও মাইমুনা উপাখ্যানটি অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে । ঘটনাটির উল্লেখ আবশ্যক আর একটি কারণে, কারণ এটি মুহাম্মদের একটি বিশেষ চারিত্রিক ও নৈতিক বৈশিষ্টকে উন্মোচিত করতে সাহায্য করে ।  হজ পালনের সময় অবশ্য পালনীয় কিছু বিধি-নিষেধ আছে যা প্রত্যেকের জন্যে সমানভাবে প্রযোজ্য ।   হজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়  কা’বা শরীফে অবস্থান কালে  স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা নিষিদ্ধ । এ নিষেধাজ্ঞার প্রথা চলে আসছিলো ছিলো প্রাক-ইসলাম যুগ থেকেই যাকে  মুহাম্মদ বাতিল  করেন নি   সুতরাং এই প্রশ্নটা অবধারিতভাবে মুসলিমদের তাড়া করে যে, মুহাম্মদ ঠিক কোথায় মাইমুনাকে বিয়ে করেছিলেন এবং বিয়েটা যাপন করেছিলেন কোথায় ? এ প্রশ্নে মুসলিম লেখকদের মধ্যে প্রবল মতভেদ দেখা যায় এবং   তাঁরা  দুটি পরষ্পরবিরোধী তথ্য পরিবেশন করে থাকেন । একদল বলেন যে, মুহাম্মদ মক্কা নগরী থেকে ৮/৯ কি.মি. দূরে অবস্থিত সারফ নামক স্থানে মুহাম্মদ ও মাইমুনার বিয়েটা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এবং সেখানেই মুহাম্মদ বিয়েটা যাপন করেছিলেন । অন্য দল বলেন যে, বিয়েটা হয়েছিলো মক্কাতেই, কিন্তু মুহাম্মদ মক্কায় অবস্থানকালীন বিয়েটা উদযাপন করেন নি,  অর্থাৎ ঐ তিন দিন মাইমুনার সঙ্গে যৌনসঙ্গম করা থেকে বিরত ছিলেন  এ দুটো মতই  বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না ।  তার কারণ হলো,  বিধবাদের সঙ্গে বিয়ে ও তাদের  সঙ্গে যৌন-সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ এর পূর্বেও কয়েকবারই ইসলামি নিষেধাজ্ঞা হেলায় লঙ্ঘন করেছেন  স্বামী মারা গেলে বিধবাদের ক্ষেত্রে ইসলামের  বিধি হলো পুনরায় বিয়ের আগে  চার মাস দশ দিন অপেক্ষা  করা  এই সময়কালটাকে ইসলামের পরিভাষায় বলে  ‘ইদ্দত’ । মুহাম্মদ  ইহুদি নারী রায়হানা ও জুয়াইরিয়ার ক্ষেত্রে এই বিধি লঙ্ঘন করেছিলেন ।  তাঁর শিষ্যরা তাঁরই নির্দেশে  এই  দু’জন নারীর স্বামীদের যেদিন হত্যা করেছিলো সেদিনই  তিনি তাঁদের বিয়ে করেছিলেন এবং সে রাত্রেই তিনি তাঁদের সঙ্গে যৌনক্রিয়াও করেছিলেন । পরে আর একজন ইহুদি নারী সাফিয়ার বেলাতেও তিনি একই ভাবে  ইদ্দত বিধির লঙ্ঘন করেছিলেন । এই নৃশংস ও অমানবিক বিবাহ-উদযাপনের কথা সর্বজন বিদিত ।  সুতরাং এটাই অধিক বিশ্বাসযোগ্য যে মুহাম্মদ মাইমুনাকে মক্কা শহরে বিয়ে করেছিলেন এবং  সেখানেই  বিয়েটা  উদযাপন করেছিলেন   




বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাইনি – পাঁচ

  দ্বিতীয় অধ্যায় শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের প্রতি তীব্র গণরোষের নেপথ্যে ২০২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ৩৬ দিন পর (৫ই ...